Archive for the ‘মরুজীবন’ Category

মরুজীবন। ৮। লাল বাহিনীর খপ্পরে

ভোর বেলা গোসল করে রেডি হয়ে মোবাইলটা খালি পকেটে নিয়ে যাচ্ছি মসজিদের দিকে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য। একটু সামনে যেতেই দেখি লাল পুলিশের (আই.এস.এফ) গাড়ী একটা ঢুকছে গলির মাথায়। পাশের রোড দিয়ে চলে যাব কিনা চিন্তা করেও আবার মত পরিবর্তন করে দেখি নাই এমন একটা ভাব নিয়ে সোজা সামনে যেতে থাকি। আরো পড়ুন »

মরুজীবন-৭: তুমারা বাল গিরতাহে?

দেশে থাকতে হিন্দি সিনেমা কোন কালে তেমন না দেখার কারনে হিন্দিটা প্রায় জানতামই না। কাতারে আসার পর দেখি বাঙ্গালী আর আরব ছাড়া আর মোটামুটি সবার সাথেই হিন্দিতে কথা বলতে হয়। এখানে উপমহাদেশের মানুষের কমন ভাষা হচ্ছে হিন্দি। প্রথম প্রথম হিন্দি জানিনা বললে সবাই মোটামুটি টিটকারী করতো। বাঙ্গালী হিন্দি জানে না এইটা আবার কেমন কথা। মনে হয় যেন বাঙলা না, হিন্দিটাই বাংলাদেশের মাতৃভাষা! যদিও হিন্দিটা এখন ভালোমতই রপ্ত হয়ে গেছে, তারপরেও কখনো কখনো কিছু শব্দ নিয়ে বেশ মুশকিলে পরে যেতে হয়। আরো পড়ুন »

মরুজীবন-৬: ফ্রি স্টাইল ফিলিপিনো

ফিলিপাইন দেশটা সম্বন্ধে আমার ধারনা ছিল এইটুকুই যে যেকোন চ্যাটরুমে ঢুকলে অসংখ্য ফিলিপিনো মেয়ের দেখা পাওয়া যায়, এবং এদের সাথে জমানো যায় খুব সহজে। কিন্তু এরা আসলে কি বস্তু সে সম্বন্ধে বিস্তারিত তেমন কোন ধারনা ছিল না। কাতারে এসে দেখি এদের সংখ্যা অগনিত। ফরসা, ছোট-খাট সাইজ, চেহারা চাইনিজদের মতো। ভীষণ স্মার্ট এবং শিক্ষিত। নিজস্ব ভাষা ফিলিপিনা হলেও ইংরেজিতেও এরা সমানভাবে পারদর্শী। এদেশের যতো ভালো ভালো শো-রুম আছে সেগুলোর সেলসম্যান সব ফিলিপিনো। হেভি ট্রাক এবং লরীর ড্রাইভারও আছে কিছু কিছু। পাবলিক বাসের ড্রাইভার প্রায় সবই ফিলিপিনো। আরো পড়ুন »

মরুজীবন-৫: পিচ্ছি সাইজের নেপালী

গত দুই বছরে কাতারে সবচেয়ে বেশী শ্রমীক রপ্তানী করেছে নেপাল। পাহাড়ী ঢলের মতই এরা আসছে এদেশে। সব ছোট-খাট সাইজের মানুষ। পাহাড়ী ভাষায় কথা বলে নিজেদের মধ্যে। তবে সবাই ভালো হিন্দি জানে। মোটামুটি সবাই নির্মান শিল্পের লেবার। এরা সর্বনিম্ন বেতনে কাজ করার জন্য এদেশে চলে আসে। এ কারনেই এদের এদেশে আসার হার এত বেশী বলে মনে হয়। আরেকটা সুবিধা হচ্ছে, এরা কাজ-কর্ম ঠিকমতো করে এবং মালিকপক্ষকে ভয় পায়। আরো পড়ুন »

মরুজীবন-৪: কাবুলিওয়ালা বিশালদেহী পাঠান

পাকিস্তানের পেশোয়ার প্রদেশের লোকদের বলা হয় পাঠান। এদের সবার বংশ খাঁন। পোশাক কাবুলিসেট। খাবার রুটি। আর সে রুটির যে সাইজ, বাঙ্গালী দেখলেও হার্ট-ফেইল করার কথা, একটা খাওয়া তো দূরের কথা। এ রুটির নামই পাঠান রুটি। পাকিস্তানের যত লোক কাতারে আছে তার নব্বই ভাগই পাঠান। এরা বিশাল দেহের অধিকারী। সম্ভবত এ কারনেই মাথায় বুদ্ধি কম। কোন কিছু যতক্ষন সোজা আছে ঠিক আছে, একটু বাঁকা হলেই এদের মাথা গরম হয়ে যাবে! আরবদের বাইরে এরাই বোধ হয় প্রথম এদেশে এসে হাজির হয় কাজের খোঁজে। প্রায় ৬০/৭০ বছর আগে জাহাজে করে। আরো পড়ুন »

মরুজীবন-৩: ওন্ডে-ওয়ালা মালবারী

ভারতের কেরালা প্রদেশের লোকদের বলা হয় মালবারী। এদের গায়ের রঙ কালো, অসুন্দর চেহারা, কিন্তু শিক্ষিত। সবাই গোঁফ রাখে।এদেশে উপস্থিত ইন্ডিয়ানদের মধ্যে এরাই হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ। শুনলে অবাক হবেন, ভারতীয় হয়েও এরা হিন্দি জানে না। অন্য এক প্রদেশের ভারতীয়র কাছে শুনেছি ভারতে নাকি অন্যরা বরং এদের ভাষা শিখে। এদের ভাষার নাম “মালয়ালম”। অদ্ভূত ধরনের এক ভাষা। এই ভাষায় ছাপা লেখা যে এরা কিভাবে আলাদা করে আল্লাহ্ মালুম! সবগুলো অক্ষর গোল্লা গোল্লা। দেখলে মনে হয় সব শূন্য। একেটা একে ধরনের শূন্য। এদেশে এদের সংখ্যা এতই বেশী যে মালয়ালম ভাষায় পত্রিকা পর্যন্ত বের হয়। “ইল্লা” এবং “ওন্ডে” এই দুটো শব্দ বোধহয় সব বাক্যেই থাকে। “ইল্লা” মানে no, “ওন্ডে” মানে yes, “নাল্লা” মানে very, “নান্নি” মানে thanks। এইটুকু হচ্ছে আমার মালয়ালম ভাষার জ্ঞান! আরো পড়ুন »

মরুজীবন-২: বারো (‘শ!) রকমের মানুষ

কাতার সত্যিকার ভাবেই একটা কসমোপলিটান দেশ। এর নির্মানশিল্পের ক্ষেত্রটা এত বিশাল যে অনায়াসে পুরো দেশটার উপর একটা “আন্ডার কন্সট্রাকশন” সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া যায়। আপনি যে এলাকাতেই যান সেখানেই দেখবেন উঠছে নতুন নতুন বাড়ী। এই শিল্পের শ্রমীকের চাহিদা মিটাতেই মূলত সারা পৃথিবী থেকে স্রোতের মত লোক আসছে এদেশে। এছাড়া অন্যান্য সেক্টরতো আছেই। আরো পড়ুন »

মরুজীবন-১: কাতার

কাতার। মধ্যপ্রাচ্যের খুব ছোট্ট একটা দেশ। মাত্র ১১,০০০ বর্গ কি.মি. আয়তন। লম্বা-লম্বি এ-মাথা ও-মাথা পাড়ি দিতে বড়জোড় ২ ঘণ্টার মামলা। রাজধানী “দোহা”। মুদ্রার নাম “রিয়াল”। বাংলাদেশের প্রায় ১৯ টাকার সমান। দেশটার তিন দিকেই সাগড়। প্রতিবেশীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বর্ডার সৌদি আরবের সাথে। আর আছে আরব-আমিরাত। দুই দেশের সাথেই স্থলপথে সংযোগ আছে। হজ্জ্বের সময় সবাই এদশে থেকে নিজের গাড়ি নিয়ে সৌদি চলে যায়। উত্তর দিকে সাগড় পাড়ি দিয়ে ৪/৫ কি.মি. গেলে বাহরাইনের ছোট্ট একটা দ্বীপ। এরপর বাহরাইন মেইনল্যান্ড। আরো পড়ুন »