কুরআনে বর্নিত কাহিনী। ২। যুলকারনাইন
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
তারা তোমাকে যুলকারনাইন সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করে; তুমি বলে দাওঃ আমি তোমাদের নিকট তার বিষয়ে বর্ণনা করবো।
আমি তাকে পৃথিবীতে কর্তৃত্ব দিয়েছিলাম এবং প্রত্যেক বিষয়ের উপায় ও পন্থা নির্দেশ করেছিলাম।
সে এক পথ অবলম্বন করলো। চলতে চলতে যখন সে সূর্যের অস্তগমন স্থানে পৌঁছলো তখন সে সূর্যকে এক পংকিল (কর্দমাক্ত) জলাশয়ে অস্তগমন করতে দেখলো এবং সে তথায় এক সম্প্রদায়কে দেখতে পেলো; আমি বললামঃ হে যুলকারনাইন! তুমি তাদের শাস্তি দিতে পার অথবা তাদেরকে সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পার। সে বললোঃ যে কেউ সীমালংঘন করবে আমি তাকে শাস্তি দিবো, অতঃপর সে তার প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে এবং তিনি তাকে কঠিন শাস্তি দিবেন। তবে যে বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে তার জন্য প্রতিদান স্বরূপ আছে কল্যাণ এবং তার প্রতি ব্যবহারে আমি নম্র কথা বলবো।
আবার সে এক পথ ধরলো। চলতে চলতে যখন সে সূর্যোদয় স্থলে পৌঁছলো তখন সে দেখলো ওটা এমন এক সম্প্রদায়ের উপর উদিত হচ্ছে যাদের জন্যে সূর্য-তাপ হতে আত্মরক্ষার কোন অন্তরাল আমি সৃষ্টি করি নাই। প্রকৃত ঘটনা এটাই, তার (আসল) বৃত্তান্ত আমি সম্যক অবগত আছি।
আবার সে এক পথ ধরলো। চলতে চলতে সে যখন পর্বত প্রাচীরের মধ্যেবর্তী স্থলে পৌঁছলো, তখন তথায় সে এক সম্প্রদায়কে পেলো যারা তার কথা একেবারেই বুঝতে পারছিল না। তারা বললোঃ হে যুলকারনাইন! ইয়াজুজ ও মা’জুজ পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করছে; আমরা কি তোমাকে কর দিবো এই শর্তে যে, তুমি আমাদের ও তাদের মধ্যে এক প্রাচীর গড়ে দিবে? সে বললোঃ আমার প্রতিপালক আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছেন তাই উৎকৃষ্ট; সুতরাং তোমরা আমাকে শ্রম দ্বারা সাহায্য কর, আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যস্থলে এক মযবুত প্রাচীর গড়ে দিবো।
তোমরা আমার নিকট লৌহপিণ্ড সমূহ আনয়ন কর; অতঃপর মধ্যবর্তী ফাঁকাস্থান পূর্ণ হয়ে যখন লৌহস্তুপ দুই পর্বতের সমান হলো তখন সে বললোঃ তোমরা হাঁপড়ে দম দিতে থাকো; যখন ওটা অগ্নিবৎ উত্তপ্ত হলো তখন সে বললোঃ তোমরা গলিত তাম্র আনয়ন কর, আমি ওটা ঢেলে দিই ওর উপর। এরপর ইয়াজুজ ও মা’জুজ তা অতিক্রম করতে পারলো না এবং ভেদ করতেও পারলো না। যুলকারনাইন বললোঃ এটা আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ; যখন আমার প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হবে তখন তিনি ওটাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিবেন এবং আমার প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি সত্য।
সুরা কাহ্ফ
আয়াতঃ ৮৩-৯৮
Very nice history. A lot of thanks to the writer of this post.