মরুজীবন-৭: তুমারা বাল গিরতাহে?

দেশে থাকতে হিন্দি সিনেমা কোন কালে তেমন না দেখার কারনে হিন্দিটা প্রায় জানতামই না। কাতারে আসার পর দেখি বাঙ্গালী আর আরব ছাড়া আর মোটামুটি সবার সাথেই হিন্দিতে কথা বলতে হয়। এখানে উপমহাদেশের মানুষের কমন ভাষা হচ্ছে হিন্দি। প্রথম প্রথম হিন্দি জানিনা বললে সবাই মোটামুটি টিটকারী করতো। বাঙ্গালী হিন্দি জানে না এইটা আবার কেমন কথা। মনে হয় যেন বাঙলা না, হিন্দিটাই বাংলাদেশের মাতৃভাষা! যদিও হিন্দিটা এখন ভালোমতই রপ্ত হয়ে গেছে, তারপরেও কখনো কখনো কিছু শব্দ নিয়ে বেশ মুশকিলে পরে যেতে হয়।

এই রকম একটা শব্দ হচ্ছে “বাল”। সেলুনে গিয়েছি চুল কাটাতে। নরসুন্দর যখন এগিয়ে এসে বলে, “বাল কাটায়েগা?”, এখনো প্রথমটা ভ্যাবচ্যাগা খেয়ে যাই। প্রশ্নটার আসল মানে যখন মাথায় ঢুকে যে সে আসলে জানতে চাচ্ছে চুল কাটাবো কি না, ততক্ষনে মিনিমাম দুই সেকেন্ড সময় পার হয়ে গেছে। যতবারই সেলুনে ঢুকি, ততবারই এই ধাক্কাটা খেতে হয়।

সেদিন এক পাঠানের সাথে গাড়ীতে যাচ্ছি। সে চালাচ্ছে, আমি চুপ করে পেসেঞ্জার সিটে বসে আছি। হঠাৎ সে জানতে চায়, কেয়া সোচতাহে? এ্যায়সে সোচেগা মে পুরা বাল সফেদ হো যায়েগা। আমি হেসে ফেলি। বলি, ইয়ে জবানা মে হার বাচ্চা সফেদ বাল কো সাথ পয়দা হোতাহে। ম্যায় তো বুড্ডা হোগিয়া। এই জমানায় সব পোলাপান পাকা চুল নিয়ে দুনিয়াতে আসে বলেছি মনে করে সে হেসে ফেলে, যদিও মনে মনে আমি বাল-পাকনা পোলাপানের কথা চিন্তা করেই আসলে হাসতে থাকি।

নতুন এক সাইটে এক কমবয়সী পাঠান সপ্তাহ দুয়েক যাবৎ পকলিন দিয়ে মাটি কাটার কাজ করছে। সারাদিন শুধু দুইজনে একসাথে সাইটে থাকায় তার সাথে বেশ বন্ধুত্ব হয়ে গেছে। একদিন দুপুরে একসাথে দু’জনে যাচ্ছি মসজিদের দিকে। হঠাৎ সে বলে, মেরা তুমকো এক বাত পুছনেকা হ্যায়। বললাম, বলো। সে বলে, তুমারা বাল গিরতাহে? হো হো করে হেসে ফেলি। ভাবি, চুল পড়লে পড়তে পারে, বাল পড়ার কথা তো কখনো শুনি নাই! বলি, নেহি গিরতাহে। সে মাথায় হাত দিয়ে দেখায়, বলে, দেখো মেরা  কিতনা বাল গিরতাহে। পুরা খালি হো গিয়া। তুম ইসকা কোই দাওয়াই জানতাহে? বলি, এর কোন ওষুধ নাই বোধ হয়। বেশি করে দুধ খাও। কাজ হতে পারে। বিয়ের চিন্তায় বেচারা অস্থির। টাক মাথার বরের ভাগ্য কোন দেশেই ভালো না।

এখন পর্যন্ত ১টি মন্তব্য

  1. ফায়সাল on

    ভাল লিখেছেন,
    এমন সমস্যায় আমিও পড়েছিলাম অনেকবার।


উত্তর রেখে যান